ইপিএ স্বাক্ষর প্রসঙ্গে বাণিজ্য উপদেষ্টা

প্রায় শতভাগ বাংলাদেশী পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে জাপানের বাজারে

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিকে (ইপিএ) দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ বলে অভিহিত করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিকে (ইপিএ) দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ বলে অভিহিত করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাবে।’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গতকাল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘মোট ৭ হাজার ৩৮৯টি ট্যারিফ লাইনের মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় সব পণ্যই শূন্য শুল্কে জাপানে রফতানি করতে পারবে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সময়ে এ বিস্তৃত বাজার সুবিধা দেশের রফতানি আয়ে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

জাপানের সঙ্গে আলোচনার দ্রুত অগ্রগতির কথা তুলে ধরে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘যেখানে অন্যান্য আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশ একই ধরনের চুক্তি করতে ১৫-২০ বছর সময় নিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ মাত্র এক বছরের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, বিপরীতে বাংলাদেশ জাপানের ১ হাজার ৭০টি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এ সিদ্ধান্তের ফলে জাতীয় রাজস্বে প্রভাব খুবই সীমিত হবে, যা বার্ষিক আনুমানিক ২০ কোটি টাকারও কম। কারণ এসব পণ্যের অনেকগুলোর ওপর এরই মধ্যে শূন্য বা স্বল্প শুল্ক বিদ্যমান, যেমন খাদ্যপণ্য, সুতা ও যন্ত্রপাতি।’

অন্যান্য খাতের বিষয়ে তিনি জানান, চুক্তিতে সর্বোচ্চ ১৮ বছর পর্যন্ত রূপান্তরকাল (ট্রানজিশন পিরিয়ড) রাখা হয়েছে, যাতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) কাঠামোর মধ্যে স্থানীয় শিল্পগুলো সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পর্যাপ্ত সময় পায়।

শেখ বশিরউদ্দীন জানান, জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি খাত উন্মুক্ত করেছে, আর বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯২টি খাত উন্মুক্ত করেছে।

এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশী পেশাজীবীদের জন্য একটি বিশাল বাজার তৈরি হবে উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘জাপানের বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সেখানে নার্স, কেয়ারগিভার, শিল্প শ্রমিক, প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।’

তিনি আরো জানান, জাপানে দক্ষ শ্রমশক্তির চাহিদা পূরণে বাংলাদেশে একাধিক ভাষা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করছে, যাতে শিক্ষার্থী ও কর্মীরা জাপানে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সনদ অর্জন করতে পারেন।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘এ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাণিজ্য উদারীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভোক্তাদেরও উপকারে আসবে।’ বাজার উন্মুক্তকরণ ও জাপানি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে গত শুক্রবার টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে ইপিএ স্বাক্ষর করে।

আরও